স্টুডেন্ট ভিসার ডকুমেন্ট তালিকা
ভারতে পড়াশোনার ভিসা। ভর্তির চিঠি (bonafide letter) আর জামিনদারের ব্যাংক সচ্ছলতার কাগজ — দুটোই বাড়তি লাগে।
কারা এই ভিসার জন্য আবেদন করবেন
ভারতের সরকারি বা সরকার-অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা। মেডিকেল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র (NOC) লাগে। মেয়াদ বাড়াতে চাইলে আগের ভিসা ও রেসিডেন্ট পারমিটের কপি লাগবে।
ডকুমেন্ট চেকলিস্ট
টিক দেওয়া তথ্য শুধু আপনার নিজের ফোনেই থাকে — কোথাও পাঠানো হয় না, লগইনও লাগে না।
সবার জন্য যা লাগে
মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ আবেদন জমা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে এবং অন্তত ২টি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে।
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
৬ মাসের হিসাবটা জমা দেওয়ার দিন থেকে — ভ্রমণের দিন থেকে নয়। অনেকে ভ্রমণের তারিখ ধরে হিসাব করে ঠিক এখানেই ফেঁসে যান। ফাঁকা পাতা দুটি পুরোপুরি ফাঁকা হতে হবে; সিল-ছাপ পড়া পাতা গোনা হয় না।
- পাসপোর্টের মেয়াদ
- জমা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে
- ফাঁকা পাতা
- পাসপোর্টে অন্তত ২টি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে
পুরনো পাসপোর্টগুলো আবেদন ফর্মের সাথে জমা দিতে হবে।
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুরনোটা বাড়িতে ফেলে রাখা স্বাভাবিক, কিন্তু অফিসিয়াল তালিকায় এটি বাধ্যতামূলক — বের করে সাথে নিন। পুরনো পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা না থাকলে কী করতে হবে তা এই নথিতে লেখা নেই; সে ক্ষেত্রে আবেদন কেন্দ্রে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের এক কপি রঙিন ছবি (২×২ ইঞ্চি), সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, পুরো মুখ দেখা যেতে হবে।
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
২×২ ইঞ্চি মানে ৫১×৫১ মিলিমিটার — বর্গাকার। বহু ব্লগে ৪৫×৩৫ মিমি লেখা থাকে, কিন্তু ওটা উল্টো ক্ষেত্রের স্পেক অর্থাৎ ভারতীয়দের বাংলাদেশি ভিসার মাপ। ছবির সংখ্যা: হাইকমিশনের নথি আর IVAC-এর ডকুমেন্ট পাতা দুটোতেই এক কপি লেখা। ছবিটি অনলাইন আবেদনে আপলোড করতে হয়, আর IVAC-এর পাতায় তার মাপ লেখা ২×২ (৩৫০×৩৫০ পিক্সেল)। IVAC-এর পাতায় ছবিটি “not less than 3 months old” লেখা — আক্ষরিক অর্থে এটি “কমপক্ষে ৩ মাসের পুরনো” বোঝায়, যা সম্ভবত উদ্দেশ্য নয়। আমরা অনুমান করে মীমাংসা করছি না; সাম্প্রতিক তোলা ছবি রাখাই নিরাপদ।
- ছবির মাপ
- ২×২ ইঞ্চি (৫১×৫১ মি.মি.), বর্গাকার, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, পুরো মুখ দেখা যেতে হবে
- ছবির পিক্সেল মাপ
- অনলাইন আবেদনে আপলোড করা ছবির মাপ IVAC-এর পাতায় লেখা ২×২ (৩৫০×৩৫০ পিক্সেল)।
- ছবির সংখ্যা
- এক কপি রঙিন ছবি — হাইকমিশনের অফিসিয়াল নথি আর IVAC-এর “Kind of Visas & Documents” পাতা, দুটোতেই এক কপি লেখা। কোথাও কোথাও দুই কপির কথা শোনা যায়, কিন্তু কোনো অফিসিয়াল সূত্রে আমরা তা পাইনি।
- ছবির ফাইল
- jpg বা png, সর্বোচ্চ ২ মেগাবাইট
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি — যেটি প্রযোজ্য।
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
নামের বানান পাসপোর্টের সাথে হুবহু মিলতে হবে। পরিচয়পত্র আর পাসপোর্টে নামের বানান আলাদা হলে সেটি আবেদন ফেরত আসার অন্যতম বড় কারণ — আগেভাগে দুটো পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখুন।
বিদ্যুৎ বিল অথবা গ্যাস বিল অথবা ল্যান্ডলাইন টেলিফোন বিলের কপি। নথিতে বন্ধনীতে লেখা আছে “not less than 6 months old”।
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
মোবাইল ফোনের বিল এই তালিকায় নেই — শুধু ল্যান্ডলাইন। আর বন্ধনীর শর্তটি অস্পষ্ট: “not less than 6 months old” আক্ষরিক অর্থে বলছে বিলটি অন্তত ৬ মাসের পুরনো হতে হবে, যদিও সাধারণত এ ধরনের শর্তে সাম্প্রতিক কাগজ চাওয়া হয়। অফিসিয়াল নথিতে এর বেশি ব্যাখ্যা নেই, তাই আমরা অনুমান করে কোনো একটি অর্থ বেছে নিচ্ছি না — সম্ভব হলে সাম্প্রতিক ও ৬ মাস আগের, দুটো বিলই সাথে রাখুন।
নথিতে লেখা আছে: (i) গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাতে পর্যাপ্ত টাকা দেখা যায়, (ii) আবেদনকারী প্রতি ১৫০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট (জমা দেওয়ার সময় এনডোর্সমেন্ট তিন মাসের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না) অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ডের কপি।
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
এই শর্তটির গঠন নিয়ে সতর্ক থাকুন। ২০২৪ সালের নথিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টকে (i) হিসেবে আলাদা করে লেখা হয়েছে, ফলে এটি পড়ে মনে হতে পারে স্টেটমেন্ট ও এনডোর্সমেন্ট দুটোই লাগবে। কিন্তু হাইকমিশনের আগের সংস্করণে (২০২১) তিনটিই “OR” দিয়ে বিকল্প হিসেবে লেখা ছিল। কোন পাঠটি এখন প্রযোজ্য তা নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না — নিরাপদ পথ হলো ব্যাংক স্টেটমেন্ট সাথে রাখা, কারণ সেটি দুই পাঠেই কাজে লাগে।
আপনার পেশা অনুযায়ী নিচের যেকোনো একটি কাগজ।
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
যে কাগজটি আপনার পেশার সাথে মেলে সেটিই দিতে হবে — গৃহিণী, বেকার বা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আলাদা কোনো বিকল্প এই তালিকায় নেই, তাই সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রে জিজ্ঞেস করে নিন। স্টুডেন্ট ভিসার তালিকায় বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নিয়োগকর্তার সনদের বদলে বেতন স্লিপও গ্রহণযোগ্য বলা আছে।
এই ভিসার জন্য বাড়তি যা লাগে
ভারতের সরকারি বা সরকার-অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির চিঠি, যা সাধারণত bonafide letter নামে পরিচিত।
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বা সরকার-অনুমোদিত হতে হবে — এই শর্তটি আগে যাচাই করে নিন, কারণ অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের চিঠি এই তালিকার শর্ত পূরণ করে না।
জামিনদারের ব্যাংক সচ্ছলতার কাগজপত্র।
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
এটি আপনার নিজের আর্থিক কাগজ থেকে আলাদা — জামিনদার সাধারণত বাবা-মা বা অভিভাবক, যিনি পড়াশোনার খরচ বহন করবেন। ব্যাংক থেকে সচ্ছলতার সনদ নিতে কয়েক দিন লাগতে পারে।
আগের ভিসা এবং রেসিডেন্ট পারমিটের কপি।
শুধু প্রযোজ্য যদি: আপনি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করছেন
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য — প্রথমবার আবেদন করলে লাগবে না।
ভারতের কোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র (NOC) লাগবে।
শুধু প্রযোজ্য যদি: আপনি ভারতের কোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তি হচ্ছেন
কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়
শুধু মেডিকেল কলেজের জন্য — অন্য বিষয়ে পড়তে গেলে এটি লাগে না। এই শর্তটি হাইকমিশনের ২০২৪ সালের নথিতে যোগ হয়েছে, আগের সংস্করণে ছিল না।
এই তালিকার সূত্র
পুরো তালিকাটি ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকার প্রকাশিত “VISA DOCUMENTS: CATEGORY-WISE” নথি থেকে নেওয়া। নথিটির তারিখ ৭ মার্চ, ২০২৪, আর আমরা সর্বশেষ মিলিয়ে দেখেছি ৩ আগস্ট, ২০২৬। নিচের লিংক থেকে আপনি নিজেও মিলিয়ে নিতে পারেন।
অফিসিয়াল নথিটি খুলুন (PDF)5. STUDENT VISA